বলিউড তারকাদের ব্যর্থ প্রেম

0
1139

বলিউডের অনস্ক্রিন প্রেমকাহিনি যেমন চর্চিত তেমনই অফস্ক্রিন প্রেম কাহিনির ঘটনাও কম নয়। তবে অফস্ক্রিন এমন অনেক প্রেম কাহিনি রয়েছে, যেগুলো বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে অসম্পূর্ণই থেকে গেছে। জেনে নিন, বলিউড তারকাদের ব্যর্থ প্রেম।

 রাজ কাপুর-নার্গিস:
আগ, বারসাত, আওয়ারা, শ্রী ৪২০, চোরি চোরি, জাগতে রাহো- এমন একাধিক সিনেমায় জুটি বেঁধেছিলেন রাজ কাপুর ও নার্গিস। অনস্ক্রিন রসায়নটা আস্তে আস্তে তাদের জীবনেও ঢুকে পড়ে। কিন্তু তখন কৃষ্ণাদেবীর সঙ্গে বিবাহিত সম্পর্কে ছিলেন রাজ কাপুর। স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে তাকে স্বীকার করতে অস্বীকার করায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন নার্গিস। রাজ কাপুর-নার্গিসের প্রেম অসম্পূর্ণই থেকে গেছে। পরবর্তীতে সুনীল দত্তকে বিয়ে করেন নার্গিস।

দীলিপ কুমার-মধুবালা:
১৯৫১ সালে তারানা সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় দীলিপ কুমার ও মধুবালার মধ্যে ভালবাসার স্ফুলিঙ্গ জ্বলতে শুরু করে। শোনা যায় মধুবালা নিজের হেয়ারড্রেসারের হাতে দিলীপ কুমারের জন্য একটি উর্দুতে লেখা চিঠি ও গোলাপ ফুল পাঠান। যাতে লেখা ছিল, যদি তিনি তাকে ভালবাসেন তাহলে যেন গোলাপ ফুলটি গ্রহণ করেন। দীলিপ কুমার সেই গোলপটি গ্রহণ করেন কারণ ততদিনে তিনি মধুবালার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। মুঘল-এ-আজম সিনেমার সময়ও এই প্রেম পুরোদমে চলছিল। এই প্রেমে বাঁধ সাধেন মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ খান। দিলীপ কুমার দুটো শর্ত দিয়েছিলেন মধুবালাকে। প্রথমত, নিজের পরিবার ছাড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাড়তে হবে অভিনয়ও। বলিউড ছাড়তে রাজি হলেও নিজের মা-বাবাকে ছাড়তে নারাজ ছিলেন মধুবালা। এরপরই দিলীপ কুমার-মধুবালার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।

পরবর্তীতে বিখ্যাত গায়ক ও অভিনেতা কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন মধুবালা। অপরদিকে দীলিপ কুমার বিয়ে করেন অভিনেত্রী সায়রা বানুকে।

গুরু দত্ত-ওয়াহিদা রহমান:
গুরু দত্ত ও ওয়াহিদা রহমানের প্রেম গোপনে শুরু হলেও এ কাহিনি বলিউডে কারো অজানা নয়। পেয়াসা সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৫৯ সালের সিনেমা কাগজ কে ফুল, যেখানে এক চিত্র পরিচালকের সঙ্গে তার প্রেমিকার সম্পর্ক নিয়ে আসলে গুরু দত্ত ও ওয়াহিদার গল্পের প্রতিচ্ছবি বলেই মনে করা হতো। কিন্তু এরপর কী হয়েছিল কেউ জানেন না, গুরু দত্তের আত্মহত্যার মধ্যে দিয়েই করুণ পরিণতি এই ভালবাসার। গুরু দত্তের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী গীতা দত্ত-ও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ১০ বছর পর তারও মৃত্যু হয়। ওয়াহিদা অভিনেতা-ব্যবসায়ী কমলজিৎকে বিয়ে করেন।


ধর্মেন্দ্র-মীনা কুমারী:
পূর্ণিমা, চন্দন কা পালনা, ফুল অউর পাত্থর – এর মতো সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভালোলাগা ও পরে ভালোবাসা। তখন অবশ্য ধর্মেন্দ্র প্রথম স্ত্রী প্রকাশের সঙ্গে বিবাহিত সম্পর্কে ছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে চলে আসতেই পিছিয়ে যান ধর্মেন্দ্র। সম্পর্কের ইতি হয়। মীনা কুমারীও হতাশায় ডুবে যান। এবং অবশেষে আত্মহত্যা করেন। পরে অবশ্য ধর্মেন্দ্র হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন।


অমিতাভ বচ্চন-রেখা:
বলিউডের সবচেয়ে চর্চিত বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কাহিনি হয়তো অমিতাভ বচ্চন ও রেখারই। ১৯৭৬ সালে দো আনজানে সিনেমা করার সময় থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন জয়া ভাদুরি অমিতাভের স্ত্রী। শোনা যায়, আলাপ সিনেমার শুটিংয়ের সময় রেখার বান্ধবীর একটি বাংলোয় দুজনে নিয়মিত দেখা করতেন। খুন পাসিনা, ইমান ধরম, গঙ্গা কি সুগন্ধ, মুকাদ্দর কা সিকন্দর, মিস্টার নটওরলাল, সুহাগ সিনেমায় কাজ করার সময় এই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়ে ওঠে। এই কথা জয়ার কানে আসতেই তিনি রেখার সঙ্গে এই বিষয়ে সরাসরি কথা বলেন এবং তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন কোনো মতেই তিনি স্বামী অমিতাভের সঙ্গে সম্পর্কও ভাঙবেন না ও তাকে ছাড়বেন না। এরপর সিলসিলা সিনেমা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যে সিনেমার চিত্রনাট্যেও রেখা, অমিতাভ এবং জয়ার ত্রিকোণ প্রেমের গল্প ফুটে ওঠে। এই সিনেমার পরই দুজনের সম্পর্কে দাড়ি পরে যায়।


সঞ্জয় খান-জিনাত আমান:
১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ সিনেমার সময়ই জিনাতের প্রেমে পড়ে যান বিবাহিত অভিনেতা সঞ্জয় খান। দুজনে একসঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু দুজনের সম্পর্কের করুন পরিণতি হয় যখন একটি অনুষ্ঠানে স্ত্রী জারিনের আদেশে জিনাতকে মারধর করেন সঞ্জয়। ওই মারের চোটে জিনাতের একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ক্রিকেটার মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনাত। সঞ্জয় খান ও জারিন এখনও একসঙ্গেই আছেন।


শত্রুঘ্ন সিনহা-রীনা রায়:
বিউটি কুইন পুনম চন্দ্রনামণি এবং অভিনেত্রী রীনা রায়ের সঙ্গে একইসঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালাচ্ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। কিন্তু শেষমেষ পুনমকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন শত্রুঘ্ন। ১৯৮০ সালে দুজনের বিয়ে হয়। পরে পাকিস্তানি ক্রিকেটার মহসিন খানকে বিয়ে করেন রীনা।


রাজেশ খান্না-টিনা মুনিম:
রাজেশ খান্না ও তার তৎকালীন স্ত্রী অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন আরেক অভিনেত্রী টিনা মুনিমের সঙ্গে। এমনকি রাজেশের বাড়িতেও থাকতে শুরু করেন টিনা। কিন্তু টিনাকে রাজেশ বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। কারণ তার ধারণা ছিল দুই সন্তান টুইঙ্কেল ও রিঙ্কি এই বিয়ে মেনে নিতে পারবে না। আর তাই এ সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। টিনার সঙ্গে ১১টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন রাজেশ। সম্পর্ক ভাঙ্গার পর টিনা বিয়ে করেন ব্যবসায়ী অনিল আম্বানিকে।


মহেশ ভাট-পারভিন ববি:
একাধিক সম্পর্ক ছিল পারভিন ববির। কবির বেদীর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর মহেশ ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। পারভিন ববির সঙ্গে তার নিজের সম্পর্ক নিয়ে অর্থ সিনেমাটি তৈরি করেন মহেশ ভাট।


আদিত্য পাঞ্চোলি-কঙ্গনা রাণৌত:
স্ত্রী জরিনা ওয়াব থাকা সত্ত্বেও বয়সে অনেক ছোট কঙ্গনা রাণৌতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আদিত্য। কিন্তু সম্পর্কে থাকাকালীনই কঙ্গনাকে মারধর করার জন্য সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন আদিত্য। বিয়ের বাইরেও একাধিক সম্পর্ক রয়েছে স্বীকার করেন আদিত্য। এরপরেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কঙ্গনা।


মিঠুন চক্রবর্তী-শ্রীদেবী:
জাগ উঠা ইনসার সিনেমার শুটিংয়ের সময় মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবীর প্রেম পর্ব শুরু হয়। তখন মিঠুনের স্ত্রী ছিলেন জোগিতা বালি। এমনও শোনা যায় গোপনে বিয়েও করেছিলেন মিঠুন ও শ্রীদেবী। এই খবর জানার পর জোগিতা বালি আত্মহত্যা করতে গেলে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন মিঠুন ও শ্রীদেবী। পরে বনি কাপুরের প্রথম স্ত্রী মোনা, শ্রীদেবীকে সাহায্য করার জন্য বাড়িতে আশ্রয় দেন। তিনি জানতেন না তার পিঠের পিছনেই শ্রীদেবী ও তার স্বামীর মধ্যে অন্য সম্পর্ক গড়ে উঠছে। গর্ভবতী হয়ে পড়েন শ্রীদেবী। এরপরই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন মোনা ও বনি।


সঞ্জয় দত্ত-মাধুরী:
সঞ্জয় দত্তের প্রথম স্ত্রী রিচা শর্মার মৃত্যুর পরই মাধুরীর সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের সম্পর্ক তৈরি হয়। থানেদার, সাজন, খলনায়ক-এ মতো একের পর এক সিনেমা একসঙ্গে করতে থাকেন দুজনে। ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণ কাণ্ডে সঞ্জয় ধরা পরার পর মাধুরী সম্পর্ক শেষ করে দেন সঞ্জয়ের সঙ্গে। এরপর ১৯৯৯ সালে ডা. নেনেকে বিয়ে করেন মাধুরী। সঞ্জয় অবশ্য মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর দুবার বিয়ে করেছেন। রিহা পিল্লাইয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বর্তমান স্ত্রী মান্যতাকে নিয়ে আছেন তিনি।


হৃতিক রোশন-কারিনা কাপুর:
বিয়ে না হলেও সুজানকে ডেট করার সময়ই কারিনার প্রেমে পড়েন হৃতিক। যদিও পরে সুজানকেই বিয়ে করেন তিনি। এবং করিনা, শাহিদকে ডেট করতে শুরু করেন। পরে অবশ্য সাইফ আলি খানকে বিয়ে করে সুখে জীবনযাপন করছেন করিনা। অন্যদিকে হৃতিকের সঙ্গে সুজানের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।


শাহরুখ খান-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া:
১৯৯২ সালে বলিউড অভিষেকের এক বছর আগে কৈশোরের প্রেমিকা গৌরী খানকে বিয়ে করেন শাহরুখ খান। ২০১১ সালে মুক্তি পায় শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা জুটির ব্যবসাসফল সিনেমা ডন ২। এতে অভিনয়ের সময় সখ্য গড়ে ওঠে এ দুই তারকার। পরে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল অনেক ঘোলা হয়েছে। প্রায় নিয়মিতই তাদের ঘিরে মুখরোচক সব খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শক্ত অবস্থান নেন শাহরুখ-পত্নী গৌরী। তার কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা সখ্যের অবসান ঘটে। গৌরীর নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন পর্যন্ত আর কোনো সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করতে পারেননি শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা।