প্রাকৃতিক উপায়ে বার্ধক্যকে প্রতিহত করুন, বয়স রাখুন ২০ এর কোঠায়

0
627

 

বয়স যখন ২০ এর কোঠায় বা তার কম থাকে তখন কেউই ডায়েবেটিস, মেদভুড়ি, উচ্চ-রক্তচাপ, হার্টব্লক, হাইকোলেস্ট্রল, চুল পেকে যাওয়া, টাক সমস্যা, যৌনদুর্বলতা বা অক্ষমতায় ভোগেন না ।
কিন্তু একটু বয়স হলেই, বিশেষত ৩০ এর পরে একে একে সমস্যাগুলোর আগমন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তীব্রতর হতে থাকে । তাহলে ৩০ এর কোঠায় আমাদের শরীরে কি এমন ঘটে যা আমাদের দুঃস্বপ্নের দিকে ঠেলে দেয় ?
সহজ ভাষায় বললে, তরুন বয়সে শরীরে অনেক বেশি হরমোন তৈরি হয় কিন্তু ৩০ এর পরে শরীরে হরমোন তৈরি কমতে থাকে। ফলে শরীরে তারুন্যের হরমোন Human growth hormone (HGH) বা Somatropin সহ পুরুষদের যৌন হরমোন Testosterone, মহিলাদের যৌন হরমোন Estrogen, insulin ইত্যাদির ঘাটতি দেয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ঘাটতি তীব্রতর হতে থাকে । শরীরে হরমোনের ঘাটতির জন্য শারীরিক ও মানসিক অনেক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে ।
শারীরিক পরিবর্তনঃ
ডায়বেটিস, হাইব্লাডপ্রেশরায়, হাইকোলেস্টরল, হার্টব্লক, হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা, দুর্বল রক্তসঞ্চালন, রক্ত তৈরির ক্ষমতা হ্রাস, রক্তশ্যন্যতা, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, হাড় দুর্বল হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, ম্লান ত্বক, চুল পরে যাওয়া, সৌন্দর্যহানী, পেশীর দুর্বলতা ওজন বৃদ্ধি, বিভিন্ন স্থানে মেদ জমে ফিগার বিকৃত হওয়া, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, যৌন শক্তি/আকর্ষণ হ্রাস বা লোপ, স্নায়ু ও মস্তিষ্ককের দুর্বলতা ইত্যাদি ।
মানসিক ও আবেগিক পরিবর্তনঃ
ঘুমের সমস্যা, আবেগ কমে যাওয়া, ইচ্ছাশক্তি কমে যাওয়া, মানসিক দুর্বলতা, আত্মবিশ্বাসের কমে যাওয়া, বিষন্নতা, মনোযোগের অভাব, দুর্বল স্মৃতিশক্তি, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, হতাশাবাদী চিন্তা, হাল ছেড়েদেয়ার প্রবণতা, মানসিক চাপ বা সঙ্কট মোকাবেলা (stress handling ability) কমে যাওয়া ইত্যাদি ।
প্রাকৃতিক প্রতিকারঃ
লাইফ স্টাইল পরিবর্তন, নির্দিষ্ট কিছু খাবার (চিনি, সফট ড্রিঙ্কস, ধূমপান, অ্যালকোহল, মাদক) বর্জন, ব্যায়াম বা নির্দিষ্ট কিছু ভেষজ ব্যবহার করে আপনি আপনার হরমোন তৈরি কয়েকগুন বাড়িয়ে নিতে পারেন । একটু সচেতন হলেই আপনার শরীর তরুন বয়সের চেয়েও বেশি হরমোন তৈরি করবে তা আপনি যে বয়সেই থাকুন না কেন । বয়স/বার্ধক্যজনিত সব জটিল সমস্যাগুলোর চমৎকার সমাধান পেয়ে যাবেন আপনি । যা মাত্র কয়েকদিনেই আপনাকে ভিন্ন জগতে নিয়ে যাবে ।
কিছু সম্প্রতিক ঘটনাঃ
# আমার রুমমেটের বয়স ৫০ এর কাছাকাছি, তাকে আমি শুধু একটি সহজলভ্য ভেষজ চিনিয়ে দিয়ে ছিলাম । আমি প্রতিদিন অবাক হয়ে দেখি তিনি রাতে রুমে এসেই করেই প্রথমে সেটা খান এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথেই আবারও ভেষজ খান যেন ভুলে না যান । কি এমন পেয়েছেন তিনি ? তারুণ্যের স্বাদ না বার্ধক্যের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ?
# গত ৪ এপ্রিল ২০১৫ এর ঘটনা, আমার বাবার বয়স ৬৫ বছর, ডায়বেটিস, হাইব্লাডপ্রেশারসহ, অনিদ্রাসহ অনেক সমস্যা, তখন বেশ অসুস্থ, প্রেশার ১৬০ তে উঠেছে, তাঁকে আমি ৬ টি ভেষজের মিশ্রণ দিয়ে আসলাম সন্ধ্যার সময় । সকালে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন ? বললেন অনেক ভালো, রাতে ভালো ঘুম হয়েছে, হজম ভালো হয়েছে, শরীর অনেক ঝরঝরে লাগছে ।
# কিছুদিন পরে আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কেমন লাগলো ? বললেন অনেক ভালো লাগছে ডায়বেটিস কল্ট্রলে আছে পুরোপুরি, ব্লাডসুগার হাই হয়না, একদিন শুধু সুগার জিরো হয়ে গিয়েছিল, গ্লুকোজ খেয়ে ঠিক করে নিয়েছেন । দুজনের কন্ঠস্বরই অনেক পরিস্কার ও জোরালো শুনলাম । উনারা যে ভদ্রাতা করে বলেন নাই সেটা নিশ্চিত ।
# আমার বয়স ৩৫, আমি নিয়মিত কিছু ভেষজ খেয়ে থাকি আমার শারীরিক মানসিকসহ অনেক দিক দিয়ে উপকারে আসে । কয়েক মাস আগে ভেষজের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছিল । অফিস থেকে ছুটি পাচ্ছি না এবং গুরুত্ব না দেবার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে না । একদিন আয়নায় খেয়াল করলাম আমাকে কেমন যেন বুড়ো বুড়ো দেখেচ্ছে, সচেতন হলাম এবং দ্রুত ভেষজ সংগ্রহ করে নিয়ে আসলাম । ২-১ দিনের মধ্যেই সহকর্মীদের সবাই বলা শুরু করলো “আপনাকে অনেক ইয়ং দেখাচ্ছে” ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here